পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালানো হলেও প্রশাসনের তৎপরতায় সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
বুধবার সকালে মহানগরীর গাছা ও বড়বাড়ী এলাকায় কিছু আন্দোলনকারী মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করে। তবে উসকানিদাতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এবং বাসন থানায় হামলা ও ভাঙচুরের অপচেষ্টা চালালে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি অপ্রীতিকর সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করা হলে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপে তা ব্যর্থ করে দেয়। এর আগে শ্রমিক তৌফিক হোসেনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, তৌফিক পুলিশের কোনো অভিযানে আহত হননি; বরং আন্দোলন চলাকালে কিছু বিশৃঙ্খলাকারী ব্যক্তির প্রহারে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শিল্পাঞ্চল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষায় গাজীপুরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে সরকার। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে বিজিবি, আনসার ও এসআরবিসহ ২৫ প্লাটুন অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি, সরকারের মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সবাইকে শান্ত থাকার এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানিতে প্ররোচিত হয়ে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার জন্য শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুপুরের পর থেকেই গাজীপুরের সব মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।